কবিতা

আদ্যনাথ ঘোষের জন্মদিনে পড়ুন কবির এক গুচ্ছ কবিতা

কাব্যকলি
  • ০২-০১-২০২৬

আদ্যনাথ ঘোষের জন্মদিনে পড়ুন কবির এক গুচ্ছ কবিতা

শুভ জন্মদিন কবি আদ্যনাথ ঘোষ



অরূপের ঘোর

কিছু সোনালি শিশির, কিছু ঝরা ফুল-
কিছু ঝিলের শালুক-  ফোটা রোদ, ঘাস
হেমন্তের মাঠ আর বাড়ির উঠোন
মন প্রাণ বুক ভরে স্বপন জোয়ার
খেলা করে চারদিক কাল চক্রাকারে।
কী যে রূপ দেখা যায় দেহে আর চোখে
হয়তো ঘরের কোণেই ভেসে আসে সেই,
যেন তার রূপ ধরে অরূপের মাঝে।



বুকের ভেতরের জমিন


আমাদেরো বুকের ভেতরে বোনা আছে বিশুদ্ধ উল্লাস।
সকলেরই প্রেম জমা আছে সেখানে
যেমন জমা আছে মাঠের ভেতরে 
ঘাসেদের বীজ
সবুজ শস্যের মতো। 

সেখানে বহুদূর ধানী জমির মতো 
ফুটে আছে প্রবাহিত রোদ- নিজস্ব চন্দ্রাবলির বুকের আড়াল।
বয়ে চলে আনন্দ বাতাস, অবারিত প্রেম;
ভোরের আলোর মতো ফুটে ওঠে ফুরফুরে হাসি।
    

নগ্ন শরীরজুড়ে ভোর ভেসে আসে,
নেমে আসে উর্বরা মাটির উপর শস্যালি রোদ্দুর।
খেলা করে আলো, খেলা করে সবুজ ফসল,
আরো খেলা করে বিশুদ্ধ প্রণয়ের রহস্যনীল।

এতোসব সবুজ শস্যক্ষেত পূর্ণ করে
ভেসে ওঠে আমাদেরই বুকের ভেতরের উর্বরা জমিন
আর বিশুদ্ধ বাতাস নিয়ে গান গায় সবুজ শস্যালি ফসলের ঘাট।



শিশিরফুল


সাদা বক উড়ে গেছে নীল রঙ প্রজাপতি মাঠ,
ডানার ভেতর থেকে খসে গেছে শরতের ক্লান্ত পাণ্ডুলিপি।
ফুলে ফেঁপে উঠে গেছে ধ্যানমগ্ন শেফালির সাদার প্রলেপ-
কে যায়? কখন যায়? কীভাবে যে চলে যায় তারা!
জানে শুধু ক্লান্ত পথ, পথের আঁধার, জানে অসম লড়াই।
কিছু দুঃখ, কিছু স্মৃতি আরও কিছু হারিয়ে ফেলে,
ফেরারী হেমন্তের নির্ঘুম পথে হাঁটু গেড়ে বসে আছে 
চোখেরই ভ্রান্ত ভুল-
হলুদ মাঠের ভেতর হারিয়ে কি ফেলেছে তারা? 
ফসলের আদিগন্ত বুকের ভেতর পুষে রাখা নীল রঙ প্রজাপতি মাঠ!
কী যেন পিছনে ফেলে বিস্মৃত সময়ের সিঁড়ি পার হয়ে
কেবলই নিছক দোহাই দিয়ে খুঁজে চলে দিনভর হেমন্ত শিশির।


বিজয়

প্রতীক্ষার প্রিয় ফুল হাতে নিয়ে উড়ে চলি সময়ের হাটে।
অন্তত ফেরার সময় হলেও পৃথিবীর পথে পথে 
হেঁটে চলি তোমারই উষ্ণতার 
প্রেম, ফুল সোহাগী মায়ায়।
কিছু ভুল, কিছু শোক আরও কিছু জন্মঋণ
বুকের ভেতরে বারবার উঁকি মারে
অদৃশ্য আলোর মতো-
আমারই নিজস্ব পূর্ণতার সবুজ শরীর জুড়ে
সোনালি ধানের উর্বশী মাঠের মতোন।
আরও কিছু প্রাপ্তির অধিক
ধেয়ে আসে আমারই বুকের গভীর
যার তরে পুষে রাখি আজন্ম ছায়া আর প্রেম
উদ্দাম উচ্ছ্বাস নিয়ে এইখানে বাংলার একাত্তরে। 


পুকুরের জল

দিঘিতে সাঁতার কাটি। 
সাগরকে দেখেনি কখনো।
ডুব সাঁতার দিলেই মনে হয় 
এ বুঝি সাগরের ঢেউ।
কখনো কি ভেবেছি-
অন্দরে ভরে আছে পুকুরের জল।
 

সময়চিত্র

এই সেই উষ্ণতার নির্মেদ শরীর-
সন্ধ্যার বিষণ্ণ অন্ধকারে কীভাবে জ¦লছে- দেখো,
শরীরের নির্জনতা ছুঁয়ে।
তারার আলোর চেয়ে আরো আরো ঢের বেশি, 
এতোটা অন্ধ আলোর সোনামুখী ভোর-
কিছুতেই ফেরা হয়নি তার,
সমস্ত শরীরের দাফন শেষে।

কিছুই কি নেই বাকি-  
অতলান্ত অন্ধকারের ভেতর।

সুফলা কবিতার শরীরে আজ চেয়ে দেখো,
বাসা বেঁধে বসে আছে আঁধারের পোকা।
অন্ধ সময় এসে দিয়ে গেছে
আলোর পোড়ামুখী উষ্ণতার চিতাকাঠ, ধূপ।

যদিও পায়নি ফিরে 
দূরের কোনো এক অন্ধ সময়,
মানুষের পৃথিবীর এতোসব সময়ের আঁচ।

তবু-  কেন জানি চেয়ে থাকি,
সময়ের শরীরের সোনাফলা বাঁকে,
সবুজ প্রান্তরের শেষ আলোটুকু।
যেমন চেয়েছিল মানুষ
ঘর গৃহস্থালি আর জমিনের ঊর্বরা সকাল।


আগুন মিছিলে

নিশ্চিন্তপুর থেকে শেষ ট্রেনে আসা যতোটা সহজ,
মায়াপুর থেকে ততোটা সহজ নয়। 
কেন না মায়াপুর শুধু পিছনেই নিয়ে যায়!

আমি যেখানে আছি সেখানে মায়াপুর নেই,
নিশ্চিন্তপুরও নেই।

এখানে আছে রক্তজবা, যজ্ঞতিলক, 
উত্তোলিত হাত।
যে আসার আসুক। এই আগুন মিছিলে।

 



















শেয়ার করুন:
কাব্যকলি

শব্দের ক্যানভাসে আঁকি অনন্তের ছবি...